জরায়ুর অতিরিক্ত রজঃস্রাবের (Metrorrhagia) হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা

Posted

জরায়ুর অতিরিক্ত রজঃস্রাবের (Metrorrhagia) হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার
জরায়ুর অতিরিক্ত রজঃস্রাবের (Metrorrhagia) হোমিওপ্যাথিক প্রতিকার

জরায়ুর অতি রজঃস্রাব বা মেট্রোরেজিয়া কি; এই সম্পর্কে অনেকেরই পরিষ্কার ধারণা নেই? আজকের আলোচনায়, জরায়ুর অতিরিক্ত রজঃস্রাব বা মেট্রোরেজিয়া কি (what is metrorrhagia), এর কারণ এবং লক্ষণ অনুযায়ী নারীদের অতিরজ বা মেট্রোরেজিয়ার হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।

নারীদের অতিরজঃ বা মেট্রোরেজিয়া কি?

ঋতুকাল ছাড়াও অন্য সময়ে জরায়ু থেকে অল্পাধিক রক্ত নিঃসরণের নাম মেট্রোরেজিয়া (Metrorrhagia)। ঋতুস্রাবের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই। সুতরাং ঋতুসহ বা তার আগে বা পরে এই রক্তস্রাব থাকতে পারে বা সবসময়ই থেমে থেমে দুএকদিন পর পর বা একটানা বেশ কিছুদিন অল্প অল্প করে রক্তস্রাব হতে পারে।

মেট্রোরেজিয়া (Metrorrhagia) ও মেনোরেজিয়া (Menorrhagia) দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য আছে, যদিও বাংলায় উভয়ের অর্থ এক অর্থাৎ অতিরজঃ, কিন্তু লক্ষণগত পার্থক্য আছে।

১। রমণীদের যখন ঠিক নিয়মিত সময় মাসিক ঋতুস্রাব হয় এবং অত্যধিক পরিমাণে হয় তখন তাকে মেনোরেজিয়া (Menorrhagia) বলে।

অন্যদিকে-

২। যখন নিয়মিত সময় অর্থাৎ ২৮ দিন পর পর ঋতুস্রাব না হয়ে অন্য সময় অত্যন্ত বেশি পরিমাণে হয় তখন তাকে মেট্রোরেজিয়া (Metrorrhagia) বলা হয়।

জরায়ুর অতি রজঃস্রাব (Metrorrhagia) এর কারণ

১। জরায়ু বা যোনির গায়ে টিউমার, জরায়ু গ্রীবায় ক্যান্সার।

২। ডিম্বকোষ বা ডিম্বনালিতে টিউমার বা প্রদাহ।

৩। জরায়ুর স্থানচ্যুতি।

৪। দেহগত হরমোনের গোলযোগ।

৫। টাইফয়েড, বসন্ত, কলেরা, কালাজ্বর, ম্যালেরিয়া প্রভৃতি রোগ ভোগ।

৬। উপদংশ, গনোরিয়া বিষযুক্ত রক্তদূষণ।

৭। জীবাণু সংক্রমণ।

আরও পড়ুন-

মেনস্ট্রুয়াল কাপ কি? মেনস্ট্রুয়াল কাপ কেন, কখন ও কিভাবে ব্যবহার করবেন?

মেট্রোরেজিয়ার লক্ষণ (Signs and Symptoms of Metrorrhagia)

১। রজোস্রাব- একবার প্রচুর পরিমাণে দমকা বেগে বের হয় আবার কখনও কখনও অনবরত চলতে থাকে।

২। মুখমণ্ডল ও চেহারা ফ্যাকাশে এবং শরীর হিম ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

৩। তলপেটে প্রসব বেদনার মত বেদনা, বমি ও বমিভাব, মূর্ছা, শ্বাসকষ্ট এবং অস্থিরতা বৃদ্ধি পায়।

৪। রক্ত হীনতার ভাব প্রকট, চোখে অন্ধকার দেখে, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, নাড়ী ক্ষীণ।

৫। ঋতুস্রাব স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি পরিমাণে হয়। কখনো কখনো ঋতু বন্ধ হয়ে বেশি দিন থাকে। তারপর হঠাৎ আরম্ভ হয় এবং খুব বেশি পরিমাণে হতে থাকে। স্রাবের সঙ্গে কালচে পদার্থ বের হতে দেখা যায়।

৬। পেটে, পিঠে, কোমরে অত্যধিক বেদনা থাকে।

৭। ক্ষুধা হীনতা, অরুচি, পরিপাক ক্রিয়ার গোলোযোগ, অম্ল, অজীর্ণ, উদরাময়, কোষ্ঠকাঠিন্য ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৮। সর্বদাই গা শীত শীত এবং হাত পা ঠান্ডা, মারাত্মক দুর্বলতা, চোখে কম দেখা, কানে কম শোনা ইত্যাদি লক্ষণ প্রকাশ পায়।

৯। নিঃসৃত রক্তস্রাব ঘোর লাল বা কৃষ্ণবর্ণ। লালবর্ণ হলে ধমনীর রক্তস্রাব (arterial or active haemorrhage); এবং কাল বা বেগুনী রঙের হলে শিরার রক্তস্রাব (venous or passive haemorrhage) বোঝায়।

প্রয়োজনীয় মনে হলে পড়ে দেখতে পারেন-

অতি রজঃস্রাব বা মাসিকের সময় অতিরিক্ত রক্ত যাওয়ার (Uterine bleeding) হোমিওপ্যাথি চিকিৎসা

জরায়ুর অতিরিক্ত রজঃস্রাবের ফলাফল বা জটিল উপসর্গ (Complications) কি হতে পারে?

১। অত্যধিক দুর্বলতা, খুব বেশি রক্ত প্রস্রাব।

২। নিম্ন রক্তচাপ (Low Blood Pressure)

৩। মস্তিষ্কের রক্তশূন্যতা (Brain Anemia)।

জরায়ুর রজঃস্রাবের (Metrorrhagia) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হোমিও ওষুধের লক্ষণ নির্দেশিকা

সবিরাম বেদনাসহ উজ্জ্বল রক্তস্রাবে- স্যাবাইনা ৩x

বেদনাহীন কৃষ্ণবর্ণ রক্তস্রাবে- হ্যামামেলিস ৩x

আঘাতজনিত রোগে- আর্ণিকা ৩x

গর্ভস্রাব বা প্রসবের পরবর্তী রক্তস্রাবে- সিকেলি ৩

অতিরজঃ টকটকে লাল বর্ণের রক্ত, তলপেটে প্রসব বেদনার মত বেদনা- ফিকাস রিলিজিয়োসা ১x

কৃষ্ণবর্ণ ডেলা ডেলা রক্তভাঙ্গাসহ প্রচন্ড বেদনায়- ক্যামোমিলা ১২

রজোনিবৃত্তি হবার পরও দীর্ঘকাল যাবৎ প্রচুর পরিমাণে রক্তস্রাব হতে থাকলে- থ্যাপ্সি-বার্সা প্যাষ্টোরিস Q, ৩x

পুরাতন রোগের চিকিৎসায়- সালফার ৩০, ক্যালকেরিয়া কার্ব ৩০ বা সিপিয়া ৩০

Author
Categories

Want to publish a healthcare blog like this! Our recommended web host.

Sharing is Caring