ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সেরা ভেষজ ওষুধ

Posted

ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সেরা ভেষজ ওষুধ
ধ্বজভঙ্গ রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত সেরা ভেষজ ওষুধ

আমাদের চতুর্দিকে অজত্নে অবহেলায় বেড়ে উঠা গাছপালার মধ্যে এমন অনেক ভেষজগুণ সম্পন্ন উদ্ভিদ আছে যেগুলো সঠিকভাবে ব্যবহার করলে অনেক দূরারোগ্য ব্যাধিও স্থায়ীভাবে চিকিৎসা করা সম্ভব। ধ্বজভঙ্গ, শুক্রমেহ ও শুক্রতারল্য রোগ চিকিৎসায় তেমন কিছু সেরা ভেষজ ঔষধের ব্যবহার প্রণালী আলোচনা করা হলো।

ঘৃতকুমারী

ঘৃতকুমারীর পাতার শাঁস বলবর্ধক ও শুক্রবর্ধক। যারা শুক্রমেহ রোগে ভোগেন তাদের জন্য এটি বিশেষ উপকারী। কোঁথ দিলে বা প্রস্রাবের সময় যাদের তরল শুক্রক্ষরণ হয় (এটাই শুক্রমেহ) তাদের ঘৃতকুমারীর শাঁস খাওয়া উচিত।

প্রতিদিন সকালে আনুমানিক পাঁচ গ্রাম পরিমাণ শাঁসের সাথে চিনি মিশিয়ে খেলে আশা করা যায় এক সপ্তাহের মধ্যেই এ রোগটি সেরে যাবে।

শিমুল

এখনও ফুল দিতে আরম্ভ করেনি তেমন শিমুল গাছের শিকড় অত্যন্ত শুক্রবর্ধক। শিকড় সংগ্রহ করে ছায়ায় শুষ্ক করতে হয় এবং শুষ্ক শিকড়কে বিচূর্ণ করে তা হতে এক তোলা পরিমাণ চূর্ণ প্রতিদিন সকালে খেতে হবে। এটি ধ্বজভঙ্গের একটি মহৌষধ। এটা অপেক্ষা অন্য কোনো ঔষধই কামোত্তেজনা বৃদ্ধি করার জন্য অধিক গুণসম্পন্ন বলে জানা যায়নি। অনেকের মতে শিকড় চূর্ণ প্রত্যহ সকালে কিঞ্চিৎ মধুসহ আবার করো মতে রাতে শোয়ার আগে ছাগলের দুধের সাথে খেলে ভালো কাজ করে।

আলকুশী

আলকুশীর প্রধান ব্যবহার বাজীকর ঔষধ হিসেবে। যে ওষুধ অতিমাত্রায় শুক্র সৃষ্টি করে অথবা অশ্বের মত রমণে প্রবৃত্ত করে তাকে বাজীকর ওষুধ বলে।

আলকুশীর বীজকে রাতে পানিতে (অথবা গরম দুধে) ভিজিয়ে রাখতে হবে এবং পরদিন সকালে বীজের খোসা ছাড়াতে হবে। খোসা ছাড়ানো বীজকে এমনিতে অথবা দুধ-পানিতে একটু সিদ্ধ করে শিলে পিষে নিতে হবে এবং অল্প ঘি এ ভাজতে হবে। পরে এর সাথে চিনি মিশাতে হবে।

এই মিশ্রণটি সকাল বিকাল চা চামচের ২ চামচ করে খেতে হবে। ঔষধ খাওয়ার পর অন্তত এক কাপ দুধ খেতে হবে। এভাবে কিছুদিন নিয়মিত খেলেই বাজীকরণ নির্বাহ হবে।

যাদের ধ্বজভঙ্গ, শুক্রতারল্য, স্ত্রীলোক দর্শনেই শুক্রক্ষরণ হয় তাদের জন্য এটি অত্যন্ত কার্যকরী। আলকুশীর বীজ চূর্ণ করে মাষকলাই এর সাথে মিশিয়ে মন্ড করে খেলেও বলবান ও বাজীকরণ নির্বাহ হয়।

বেল

শুক্রতারল্য রোগে বেল এর ব্যবহার আছে। বেল মূলের ছাল চূর্ণ ১২/১৩ গ্রেণ এবং তার অর্ধেক পরিমাণ জিরা এক সাথে বেটে ঘিয়ের সাথে মিশিয়ে কিছুদিন খেলে তরল শুক্র গাঢ় হয়। অনেকে এর জন্য মূলের ছালের রস, দুধ ও জিরা একত্রে খেতে উপদেশ দেন।

Author
Categories

Sharing is Caring